ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

নামাজের পর চলছে পশু কোরবানি

মহসিন হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২০
নামাজের পর চলছে পশু কোরবানি নামাজের পর চলছে পশু কোরবানি, ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। শনিবার (১ আগস্ট) করোনা ও বন্যার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানেরা ত্যাগের মহিমায় নামাজের পর পরই পশু কোরবানি শুরু করেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নামাজ শেষ করেই পশু কোরবানি শুরু করা হয়েছে। পাড়া মহল্লার গলির মধ্যে, আবার কারও বাড়ির গ্যারেজে চলছে পশু কোরবানি। গরু জবাই দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেনরা। গরু নিয়ে কেউ অপেক্ষা করছেন হুজুরের। কেউ নিজের গরু নিজেই কোরবানী করছেন আল্লাহর রাস্তায়।

রাজধানীর মগবাজার পূর্ব নয়াটোলার একটি মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদে নামাজ আদায় করে ৮টার দিকে বের হয়েছি। এখন সকাল ৯টা বাজে, এ পর্যন্ত সাতটি পশু কোরবানি করেছি। আরও করব।  

কতগুলো করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতগুলো পারা যায়।

করোনার কারণে উৎসাহ কম থাকলেও পশু কোরবানির আশে পাশে শিশুদেরও দেখা গেছে।   
সিটি করপোরেশন থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর অলি-গলিতে কোরবানি করতে দেখা যায়।

মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিমের (আ.) দেখানো পথে ত্যাগের মহিমা ও উৎসর্গের আনন্দ নিয়ে শনিবার এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।  

‘আল্লাহু আকবার. আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে ঈদ জামাতে হাজির হন মুসল্লিরা।  

এ বছর ঈদগাহ অথবা খোলা মাঠে নামাজের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সবাই মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর বিশেষ মোনাজাতে দেশ-জাতি তথা বিশ্ব মুসলিমের জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে করোনা-বন্যার মতো মহামারি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া হয়।

ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর আদেশে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা।

তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন, তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর তরফ থেকে।  
 
সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব বা কারো কারো মতে সুন্নত।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নত হিসেবে কোরবানির মাংস তিন ভাগের এক ভাগ গরিবের হক ও এক ভাগ আত্মীয়ের হক হিসেবে বণ্টন করা হয়। বাকি এক ভাগ নিজেদের জন্য রাখা হয়। এ নিয়মটি উত্তম হলেও কোরবানি যিনি দিচ্ছেন, তিনি চাইলে পুরো বা আংশিক মাংস নিজেদের জন্য রাখতে পারেন বা বিলিয়েও দিতে পারেন।  
 
জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি করা যায়। তবে মহানবী (সা.) ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করাকেই উত্তম ঘোষণা করেছেন। সেই মোতাবেক এবার শনিবার ১০ জিলহজই বেশিরভাগ মানুষ পশু কোরবানি করছেন।
 
বাংলাদেশ সময়: ১০০১ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২০
এমএইচ/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa