ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

যমুনা-ফুলজোড় নদী ঘিরে বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্য

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২০
যমুনা-ফুলজোড় নদী ঘিরে বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা, বড়াল, হুরাসাগর ও ফুলজোড় নদী ঘিরে বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জরিমানা আদায় ও ড্রেজার পুড়িয়ে দিলেও থামছে না ব্যবসায়ীদের তৎপরতা।

একের পর এক নদী ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ বাংলা ড্রেজার কিংবা ভেকু মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু।  

এদিকে জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত আবেদনে প্রায় দুই ডজন অবৈধ বালু পয়েন্ট চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা।  

অনুসন্ধানে জানা যায়, উন্নয়ন কাজের জন্য চাহিদা বাড়ায় যমুনা, ফুলজোড়, বড়াল ও হুরাসাগর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পন্থায় উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। বালু তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দেশীয় পদ্ধতির বাংলা ড্রেজার ও ভেকু মেশিন। এতে তীরবর্তী বাড়িঘর ও কৃষিজমিগুলো পড়ছে হুমকির মুখে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে নামমাত্র দামে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন।  

এদিকে যমুনায় বালু উত্তোলনের ফলে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে অরক্ষিত লোকায়লগুলো।  

স্থানীয় সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম, রাজিব আহম্মেদ, মাসুদ মোশারফ, জাকারিয়া মাহমুদ ও আরিফুল ইসলাম বলেন, শাহজাদপুর উপজেলায় চারটি নদী ও কৃষি জমিতে প্রায় ২৫টির মতো পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। মাঝে মধ্যে দু’একটি মহাল বন্ধ হলেও বেশিরভাগই চালু। যমুনায় বালু উত্তোলনের ফলে পাচিল-ভেড়ামারার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস নামতে শুরু করেছে। এছাড়া তীরবর্তী জনপদগুলো রয়েছে হুমকির মুখে। স্থানীয় কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন কম দামে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে জমি বিক্রি করতে। প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ কৃষকরা।  

অপরদিকে ফুলজোড়, বড়াল ও হুরাসাগর নদীতেও বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।  

এছাড়া ফসলি জমিতে ভেকু মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি চলছে দেদারচে। এসব বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় কৃষকদের পক্ষে আমরা বেশ ক’জন সাংবাদিক প্রায় এক মাস আগে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি। আবেদনের পর উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে কয়েকটি অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করে দেয় এবং বেশ কয়েকটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপরও পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা গুদারাঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে বিনোটিয়া বাজারের মাঝামাঝি স্থান, ভাটপাড়া, কালিয়ার চর গ্রামে, বেলতৈল ইউনিয়নের চর কাদাই গ্রামের বিলের মধ্যে, নরিনা ইউনিয়নের করতোয়া গুদারা ঘাটে, পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামের স্লুইচ গেট এলাকায় এখনও বালু ও মাটি উত্তোলন চলছে। এছাড়া কৈজুরী হাটের দক্ষিণে চর কেটে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হচ্ছে।  

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামছুজ্জোহা বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা পোরজনাতে অভিযান চালিয়ে চারটি ড্রেজার পুড়িয়ে দিয়েছি। এরপরও লুকিয়ে লুকিয়ে চালালে আমরা খবর পেয়ে বন্ধ করে দেই। মূল কথা হচ্ছে জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা কেউ মুখ খোলে না বা মামলা করে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। আগে যেভাবে শাহজাদপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন হতো এখন আর অতটা নেই।  

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. গোলাম রাব্বী বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শাহজাদপুর ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২০
আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa